এপ্রিল ২০১৮: Let’s become consistent

143
Lets be consistent
Lets be consistent

আমি এই বছরের একদম শুরু থেকেই প্রতিদিন একটু একটু করে সারাদিনের সারমর্ম লিখি। এতদিন ধরে লিখার পরে যেটা বুজতে পারলাম তা হলো আমার কনসিস্টেন্সি নিয়ে সমস্যা আছে। আমি যা করি উঠেপড়ে করি, কিন্তু টানা করতে থাকি না। উঠেপড়ে কোন কাজ করলে কাজটা সম্পন্ন হয়, আর টানা কোন কাজে লেগে থাকলে ওই কাজটাতে দক্ষতা আসে। এপ্রিল এবং মে মাসের লক্ষ্য হলো টানা কোন কাজে লেগে থাকা। কোন কাজ কয়েকদিন ধরে সারাদিন না করে আগে থেকেই কয়েক ঘণ্টা করে আস্তে ধীরে করতে হবে। যে কাজ, ২০ ঘণ্টায় করা সম্ভব তা ২ দিন ১০ ঘণ্টা করে না করে ৭ দিনে ৩ ঘণ্টা করা হলো লক্ষ্য। যদিও সব কাজ এইভাবে করা যাবে না কিন্তু একাডেমিক কাজ এইভাবে করা সম্ভব এবং এইভাবেই করা উচিত।

১ এপ্রিল: 

আগামী সপ্তাহটা একটা ব্যস্ত সপ্তাহ যাবে। সব মিলিয়ে নানান রকমের কাজকর্ম। আজকেও হোমওয়ার্ক ছিলো পাইথন কোর্সের তবে সুখের কথা হলো রিসার্চের কাজের একটা হদিস পাওয়া গেছে। আশা করি ভালো কিছু হবে।

২ এপ্রিল: 

আজকে ল্যাব মিটিং ছিলো। কাজের আইডিয়া প্রফেসেরর সাথে শেয়ার করলাম। তিনি আরো কিছু আশা করেন এর সাথে। তার পরেও মোটামুটি আগ্রহী বলে মনে হয়েছে। আজকে সুদীপের এপার্টমেন্টে গিয়েছিলাম আমি, আজহার ভাই এবং অয়ন চা খেতে। চা আর সাথে ড্রাই কেক :D। আজকে জুল ভার্নের মিসটেরিয়াস আইল্যান্ড বইটা পড়লাম। বেসিক সায়েন্সের অনেক কিছুই জানা যাবে এই বইতে। 🙂

৩ এপ্রিল: 

আজকে মোবাইল এবং সেন্সর ডাটা কোর্সের রিসার্চ প্রজেক্ট মিটিং ছিলো। বলা যায় একদম অপ্রস্তুত অবস্থায় আমরা মিটিং এ যাই। ওখানে হুট করে একটা আইডিয়া আসায় আমরা কিছুটা আলোচনা করে সেই আইডিয়া প্রফেসরকে বুজাই বলি। যদিও রিপোর্ট জমা দিয়ে দিতে হবে কালকে কিন্তু তাও বোধহয় একদম বাজে কিছু হবে না।

৪ এপ্রিল: 

ট্যাক্স ফাইলিং একটা বিরক্তিকর ব্যাপার। আমার দুই স্টেট হওয়াতে ঝামেলা বেড়ে গেছে। দুই স্ট্যাটে একসাথে ট্যাক্স ফাইল করতে হতে পারে। আবার ফেডারেল তো আছেই। দেশেও ট্যাক্স ফাইল করা হয়নি এই বছর। দেশে গেলে জরিমানা সহ ট্যাক্স ফাইল করতে হবে। আজকে ওয়ালমার্টে গেলাম ট্যাক্স ফাইল করতে। ওদের ৪৯ ডলার থেকে ফাইলিং শুরু এবং আরো বাড়তে পারে চার্জ। আমি যদি নিজে নিজে ফাইল করি তাহলে দিতে জবে ৬১ ডলার। অগত্যা নিজেই ফাইল করা শুরু করলাম। 😀

৫ এপ্রিল: 

আগামী ৭ তারিখের আবার ক্রিকেট ট্যুরনামেন্ট হবে। গত সেমিস্টারে আমরা রানার্সআপ ছিলাম। এইবার হয়ত ভালো কিছু হবে। আজকে কিছুক্ষণ প্র্যাকটিস করলাম ক্রিকেট। বয়সের সাথে সাথে আমার খেলা-ধূলার আগ্রহ বাড়তেছে। যে কোন কিছুই খেলতে ভালো লাগে। পড়াশোনার আগ্রহটা কমে যাচ্ছে। খাওয়া, ঘুম, খেলা, পিসি এইসবে দিন কাটাতে ইচ্ছে করে।

৬ এপ্রিল: 

আমি ডালের মরিচ রান্না করা শিখছি। শুদ্ধ ভাষায় এইটাকে বোধহয় ডাল-ভূনা বলে। আজকাল যেভাবে রান্না নিয়মিত করছি তাতে মনে হচ্ছে শীঘ্রই সব বেসিক রান্না শিখে ফেলব। ট্যাক্স ফাইল করে মেইল করে দিয়ে আসছি আজকে। নিয়ে যাক আমার ৬১ ডলার। অবশ্য চেকে সাইন করতে ভুলে গেছি। দেখা যাক কি করে ওরা এই সাইন-ছাড়া চেক দিয়ে। 😛

৭ এপ্রিল: 

আজকে দুইদিনের ক্রিকেট টুরনামেন্ট এর প্রথম দিন ছিলো। খেলায় টাই-টাই উত্তেজনা ছিলো। অবশ্য এইবার টিম গতবার থেকে কম ছিলো। সেমিস্টারের শেষের দিকে সবাই চাপে পড়ে যায়। তখন কেউ আর সময় নষ্ট করতে চায় না। আমরা সরাসরি ফাইনালে চলে গেছি। দেখা যাক এইবার আমরা কাপ নিজেদের ঘরে নিতে পারি কিনা। 🙂

৮ এপ্রিল: 

আজকে দিনের সবচেয়ে বড় সংবাদ হলো আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছি  ক্রিকেটে। অবশ্য ফাইনালে আবার খেলা খারাপ হইছে। রান-আউট হয়ে ঘরে চলে আসছি ১ বল খেলেই। ডাইরেক্ট হিটে আউট। আর একটু জোরে দৌড়ানো দরকার ছিলো। অবশ্য দৌড়ালেও মনে হয়না পৌঁছাতে পারতাম। আমি এই টুরনামেন্টের একমাত্র ডাইরেক্ট হিটে রান-আউট। তবে দিনশেষে কাপ আমাদের এটাই বড় কথা। রাতে মুরগী-খিচুড়ি ছিলো ডিমসহ পার্টিতে। এত কিছুর মাঝে হোমওয়ার্কও করতে হয়েছে। দেশে কোন কিছু থাকলেই আমরা প্রথমে ক্লাস এবং পরীক্ষা-হোমওয়ার্ক এইসব বাদ দেই। এইখানে পুরো উল্টোটা হয়।

৯ এপ্রিল: 

এমডিএম কোর্সের প্রজেক্ট রিপোর্ট জমা দিলাম আজকে। শেষ সময়ে লিখা বলে খুব একটা ভালো হয়নি। একটা এলগরদিম ডেভেলপ করলেও এটাকে ভালো কিছু বলার কোন সুযোগ নাই।

১০ এপ্রিল: 

এখনও পরীক্ষার আগের দিনে আমার খুব ঘুম আসে। নোবিপ্রবিতে এমন হতো। পরীক্ষার আগের দিন কোনভাবেই ঘুম তাড়াতে পারতাম না। ১ ঘণ্টা পড়ে ২ ঘণ্টা ঘুমাতাম। কালকে ডাটা মেথোডোলজি কোর্সের পরীক্ষা। ঘুমের জন্য পড়ার চান্স পাচ্ছিনা। 🙁

১১ এপ্রিল: 

গতকালে সারাদিন ঘুমালেও পরে রাতে না ঘুমিয়ে কিছু পড়াশোনা হয়েছে। এইজন্য পরীক্ষায় মোটামুটি লিখে আসছি। পরীক্ষা শেষে গেলাম নরসুন্দরীর কাছে। এই দেশে কোন সেলুনে পুরুষ দেখলাম না এখনো। অবশ্য মেশিন দিয়ে চুল কেটে ফেলে কয়েক মিনিটে। চুল কাটার সময় আফসোস হয়। ৫ মিনিটে ১৩ ডলার চলে গেলে আফসোস না করে উপায় কি! চুল না কেটে উপায় ছিলো না। আব্বু এইখানে থাকলে চুল ধরে টানতো আর তার প্রিয় কবিতা শোনাতো আমাকে। “মেজাজ ছিলো তিরিক্ষ তার, মাথায় ছিলো চুলের বাহার.. শুনলাম তার সেই চুলে, কোন থেকে এই চড়ূঁই ভুলে….”

১২ এপ্রিল: 

আজকে সিএসটিই অ্যালুমনাই এসোসিয়েশন প্রথম কমিটি নির্বাচনের জন্য ভোট হবে। হুট করে ভোটে আমিও প্রার্থী হয়ে গেলাম। ইডুকেশন, রিসার্চ এবং ট্রেইনিং পোস্টে শম্পা আপু এবং অলি ভাইও প্রার্থী। ওনাদের সাথে একই পোষ্টে থাকা ঠিক হয় নাই। নির্বাচনে ওনারা জিতলেও বেশ ভালো হবে। 🙂

আমি মুরগী রান্না করা শিখে ফেলেছি। গরু, মুরগী, ঘন-ডাল, খিচুড়ি সব রান্না করা হয়ে গেছে। আশা করি এখন একা কিছুদিন থাকলেও না খেয়ে দিন কাটাতে হবে না। 🙂

১৩ এপ্রিল: 

ব্যাড়মিন্টন খেলা চলছে এখনও। মাঝে কয়েকদিন ব্রেক ছিলো। আজকে পাইথন কোর্সের পরীক্ষার স্কোর দিয়ে দিছে। ড. চেন সবকিছুতেই খুব ফাস্ট। দিনে দিনে সব শেষ করে ফেলে। আমার পুরো উল্টো। অবশ্য স্কোর আশার থেকে ভালো হয়েছে।

১৪ এপ্রিল: 

আজকে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে পট-লাক ছিলো। আমার ভাগে ছিলো ডাল রান্না করা। ডাল খাওয়ার উপযোগী হলেও কালার ঠিকমত হয়নি। অনেক রকমের ভর্তা ছিলো পার্টিতে। আরিজ অনেকগুলো সুন্দর ছবি এঁকে নিয়ে আসছে। ফলে একটা ফটো-এক্সিভিশনও হয়ে গেছে। খাওয়া শেষে মজার আড্ডা ও ডেজার্ট ছিলো। 🙂

১৫ এপ্রিল: 

আজকে দিনটা খুব একটা সুখের ছিলো না। দুইটা কোর্সের প্রজেক্ট রিপোর্টের রিভিউ দিয়েছে স্যাররা। কোনটাই আশানুরূপ ভালো হয়নি। একটাতে ভালো হবেনা জানা ছিলো। অন্যটা আন-এক্সপেক্টেড। আমাদের কাজ আর স্যারের চিন্তা একই রকম না হওয়াতে মূলত এমনটা হয়েছে। ওনার প্রজেক্ট নিয়ে চিন্তা-ভাবনা স্ট্রেইট। আমাদেরটা অনেকটাই রিসার্চ বেইজড। মূলত এইজন্য অমিল। দেখা যাক ফাইনাল রিপোর্টে ভালো কিছু করতে পারি কিনা আমরা। 🙂

Comments

comments