মার্চ ২০১৮: নতুন করে কোডিং শেখা এবং স্পষ্টবাদিতা

235

পৃথিবীতে আমরা প্রতিদিন শিখতে থাকি। সেই শিক্ষা গ্রন্থগত হোক কিংবা জীবন থেকে নেয়া হোক। শেখার জিনিসটা হচ্ছে কম্পাউন্ড ইন্টারেষ্টের মত। হুট করে একদিন জানা যায় যে, অনেক কিছু জানা হয়েছে। সেই একদিনের আগের দিনও বুজা যায় না যে কি শিখলাম, কেন শিখলাম। যাই হোক, ইদানিং মনে হচ্ছে প্রোগ্রামিং ঠিকমত শেখা হয়নি। অনেকগুলো ছোট ছোট জিনিস না বুজেই প্রোগ্রামিং করি। তাই নতুন করে আমার শেখাটা শুরু করা দরকার। আর এইজন্য এলগরিদম পড়া শুরু করলাম। কোর‍ম্যান এর বইটাতে মাত্র ১৩০০ এর মত পেইজ। প্রতিদিন ১০ পেইজ করে পড়লে ১৩০ দিন বা বেশি হলে ৫ মাসে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা বইটা। যদি শেষ করা যায় তাহলে চমৎকার একটা বিষয় হবে। দেখা যায় এই টার্গেট পূর্ণ হয় কিনা। এই টার্গেট পূর্ণ হবে কিনা বুজা যাবে আজ থেকে ৫ মাস পরে মানে আগষ্টের শেষে। দেখা যাক কতটুকু কি হয়।

১৬ মার্চ: 

বলেছিলাম যে এই মাস কনটেস্ট নিয়ে থাকবো। কনটেস্ট চলছে জোর-ধার। Kaggle এর ফ্যান হয়ে গেছি আমি বলতে গেলে। রাতে ঘুমাই ৪টা-৫টার পরে। উঠি ১১টায়। উঠে আবার শুরু করি। পাইথন খুব জোস! আর পান্ডাস লাইব্রেরিটাও। জানিনা আগেই কেন পাইথন শুরু করি নাই। সি এর সাথে সাথে পাইথনও শেখানো প্রয়োজন খুব।

টুকটাক রান্না-বান্নার চেষ্টা করতেছি। কিছু হয় কিছু হয়না। 😛

১৭ মার্চ: 

মাইগ্রেইন স্ট্রাইকস! কয়েকদিন রাতে না ঘুমাই কোড লিখছি আর মাইগ্রেইনের মনে হইছে যে অনেকদিন কিছু বলে নাই আমারে। তাই ডাইরেক্ট এটাক করছে। নাপা খেয়ে পাত্তা না দেয়ার চেষ্টায় আছি। অবশ্য আমেরিকাতে মাইগ্রেইন ঝামেলা অনেক কম করছে।

ক্যাগলে আমাদের ভালো উন্নতি হইছে। যদিও এখন কেন জানি কিছুতেই আর কিছু হয় না এমন অবস্থা। এখন যেভাবে আছে সেইভাবে থাকলেও একটা সিলভার মেডেল পাওয়া যাবে। 😀

১৮ মার্চ: 

মানুষকে হুট করে চেনা যায় না। অনেক মানুষকে দেখলে বোকা করে হয়, এমনকি কর্মকান্ডেও। কিন্তু আসলে ভালোই চালাক।

আজকে বাংলাদেশ হেরে গেলো। মন খারাপ হয়ে গেলো খুব। এইবার খেলা নিয়ে খুব উত্তেজনা ছড়াইছে। ৩ দেশই লাফালাফি করছে। কেন জানি সব কিছুতেই দিন দিন এগ্রেসিভনেস চলে আসতেছে।

১৯ মার্চ: 

আজকে চিংড়ি মাছ ভাজি করছিলাম। বিশ্রি হইছে। আদা-রসুন বেশী হয়ে গেছে। 😛

ল্যাব মিটিং ছিলো। ল্যাবের কাজটা ঠিকমত এগুচ্ছেনা। দিন দিন পেচাই যাচ্ছে মনে হচ্ছে। এলগরিদম বইটা পড়া হচ্ছে। দেখি কতদিন ঠিকমত পড়া হয়।

২০ মার্চ: 

ক্যাগলে প্রথম প্রতিযোগিতা শেষ হইছে। শেষ অবস্থান ২০০তম। সিলভার মেডেল পাওয়া গেছে। অবশ্য গালিব ভাই এর কারণে। উনি না থাকলে আমি ঠিকথাক বুজতেই পারনাম না কিছু। আশা করি সামনে আরো ভালো কিছু হবে। 🙂

মোবাইল ডাটা কোর্সের হোমওয়াক ২ ঠিকমত হয়নাই। আবার করার জন্য টাইম দিছে। দেখি এইবার ঠিকমত করতে পারি কিনা।

২১ মার্চ: 

টিম প্রজেক্ট এর লক্ষ্য থাকে যাতে সবাই মিলে আলোচনা করে ভালো কাজ হয়। কিন্তু আমাদের স্বভাব হচ্ছে একজন কাজ করবে বাকিরা ফাঁকি দিবে। 😛 অবশ্য যে কাজ করে সে দিনশেষে ভালো শিখতে পারে।

পাইথন এর পান্ডাস আসলেই খুব কাজের লাইব্রেরি। অনেক ফাষ্ট এবং পাওয়ারফুল। কাজ করে খুব মজা পাচ্ছি। কোন ল্যাঙ্গুয়েজে কাজ করে এর আগে এত মজা পাই নাই।

২২ মার্চ: 

ইভা আর আমার অন্যরকম একটা সময় যাচ্ছে। একটা সুইট সময় আসলে। আমার মনে হয়না এমন সুন্দর সময় সবসময় থাকে। আমার সুপারভাইজর এর জন্য ধন্যবাদ পাবে। 🙂

MDM এর হোমওয়ার্ক আবার করা হয়েছে। এইবার ঠিকঠাকমত। পেপারও পড়লাম ওই এলগরিদম এর। ১৯৯৫ এর পেপার। এই সভ্যতা একটু একটু করে গড়ে উঠের এইভাবে ইটের পরে ইট দিয়ে। এক একটা ভালো পেপার এক একটা ইট। আর কিছু মারাত্মক ভালো পেপার হয়ে যায় এক একটা পিলার।

২৩ মার্চ: 

মাঝে মাঝে রাতে ঘুম আসে আসে কিন্তু আসে না। এটা অদ্ভুত খুব। বিশেষ করে টানা কয়েকদিন কোড করার পরে এইটা হয়। শরীর খুব ক্লান্ত থাকে, মনে হয় ঘুমে ভেঙে যাচ্ছি কিন্তু ঘুম আসে না।

ইদানিং সিলিকন ভ্যালি সিরিয়াল দেখা শুরু করেছি। মজার সিরিয়াল। সিলিকন ভ্যালি নিয়ে মজার একটা পারস্পেক্টিভ দেয়।

২৪ মার্চ: 

আজকে আবার চিংড়ি মাছ রান্না করছি। আজকের রান্না ভালো হইছে। বুজে গেছি কোনটা কি পরিমাণে দিতে হয়। 😀

আজকে সারাদিন পাইথন কোডিং এ গেলো। কোর্সের জন্য। অবশ্য ভালো লেগেছে বেশ। ক্যাগলে নতুন দুইটা কনটেস্টে জয়েন করলাম। দেখা যাক কি হয়। 😛

২৫ মার্চ: 

আজকে পাইথন প্রজেক্ট রিপোর্ট জমা দিলাম। কয়েক ঘণ্টা গেছে শুধু সব গুছিয়ে লিখতে। ভাবতেছি পরীক্ষা এর পরে পুরো ফাইলটা ওয়েবসাইটে আপলোড করে দিব। যারা আগ্রহী তাদের জন্য ভালো কাজে দিবে। পুরো ফাইল গুছিয়ে লিখা আছে একদম।

The greatest Showman মুভি দেখতেছিলাম কাজ করার মাঝে। মুভিটা অন্যরকম। এইরকমের মুভি খুব একটা দেখি নাই আমি।

২৫ এবং ২৬ মার্চ আমাদের জাতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ দুইটা দিন। আমরা ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে গেলেও এখনও স্বাধীনতার মূল লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারি নি। এই দেশের জন্য যারা প্রাণ দিয়ে গেছেন সবার জন্য রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা!

২৬ মার্চ: 

মাঝে মাঝে আমার হুট করে ফেইসবুকে যাওয়া হয় পেইজের জন্য। আবার মাঝে মাঝে নানান নিউজ শেয়ার করে বন্ধুরা। ধর্ষণ জিনিসটা দেশে মারাত্মক আকার ধারণ করছে। এর থেকে যেটা ভয়াবহ সেটা হচ্ছে বিচার হচ্ছে না এটার কোন। ধর্ষণ কেন হচ্ছে, এতে কাপড়ের দোষ কতটুকু আর পশুদের দোষ কতটুকু এইসব নিয়ে বেশী আলোচনা হচ্ছে। ধর্ষণের বিচার হওয়াটা দরকার। বিচার না হতে থাকলে এটা মহামারি হয়ে যেতে পারে। স্বাধীনতা দিবসের দিন এই রকমের নিউজ শুনতে কোন জাতিরই ভালো লাগার কথা নয়। 🙁

স্প্রিং ব্রেক চলছে। ব্রেক কেন জানি ব্রেক মনে হচ্ছে না। ঘুরাঘুরি করতে গেলে মনে হতো। কবে যে আমার ঘুরাঘুরির মত একটা মানসিকতা এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা তৈরি হবে কে জানে। আজকে খিচুড়ি রান্না করেছিলাম। খিচুড়ি রান্নার পরে দেখি তেহারি হয়ে গেছে। গরুর মাংস দেয়াতে এমন হয়ে যেতে পারে। পরের বার সবজি দিয়ে দেখতে হবে। 😀

২৭ মার্চ: 

আজকে ঘুম দিবস বলা যায়। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ ঘণ্টার বেশি ঘুমাইছি। অবশ্য আগের কয়েকদিন ঘুম হয় নাই। সব পাওনা ঘুম মিটিয়ে নেয়া হইছে একদিনে। এরপর মুভি দেখা হইছে। 😛

২৮ মার্চ: 

আমাদের বিবাহ বার্ষিকী ছিলো আজকে। বাংলাদেশের হিসেবে কালকেই শুরু হয়েছে অবশ্য। ফেইসবুকে থাকলে এইটা নিয়ে পোষ্ট দেয়া হতো। মানুষজন উইশ করতো। ফেবু নাই এইসব ঝামেলাও নাই। আমরা দুই টোনা-টোনি ঘরে বসে বসে দিন শেষ করে ফেলেছি। প্রতিবার গোলাপ কিনি এই রকমের কোন কিছুতে। এইবার টিউলিপ কিনছি। ঠিক ফুল কিনি নাই। কলিসহ ছোট গাছ কিনছি। ২-৩ সপ্তাহ থাকার কথা ঘরে অন্তত। 🙂

২৯ মার্চ: 

আজকে গালিব ভাই এর বাসায় দাওয়াত ছিলো। ভালো খাওয়া-দাওয়া হইছে। আসার সময় ইভার জন্য খাবারও দিয়ে দিছে। টিউলিপ ফুলের কলি দেখি ফোটা শুরু হয়ে গেছে। কয়েকটা এর মাঝেই বড় হয়ে গেছে।

৩০ মার্চ: 

প্রায় সবগুলো ফুলই ফুটে গেছে দেখি। এত দ্রুত ফুটে যাবে চিন্তাও করিনি। আর কয়েকদিন পরে হয়ত ঝরে যাবে। আজকাল বেশী রাত জাগা হয়। আর লুডুও আবার খেলা হচ্ছে। দুইটাই খারাপ।

প্রোডাক্টিভিটি চেক করার জন্য আজকে ছোট একটা রিপোর্ট বানালাম। আইডিয়া খুব সিম্পল। প্রতি সপ্তাহের প্লান করা থাকবে এবং প্লানমাফিক কাজ কতটুকু হলো তার উপর নির্ভর করে স্কোর দেয়া হবে। একটা গ্রাফ থাকবে যাতে দেখা যাবে কিভাবে গ্রাফ উঠে নামে। গড় হিসেবে আমি যদি ৬০ বছর বাঁচি (যদি হায়াত থাকে) তাহলে মোট হবে ৩১২৮ সপ্তাহের মত। এর মাঝে প্রায় ১৪৬০ সপ্তাহ শেষ। প্রতি সপ্তাহ শেষে আমি নিজেকে চেক করতে চাই যে, কতটুকু কি করলাম।

৩১ মার্চ: 

রিসার্চ করতে মাঝে মাঝে খুব ভালো লাগে। কিন্তু এরপর যখন বুঝে যাই অনেক কাজ করতে হবে তখন ঝিমিয়ে যাই। খেয়াল করে দেখলাম ছোট হোমওয়ার্ক আমি দ্রুত করে ফেলি। মানে সময়ের অনেক আগেই। বড় হোমওয়ার্ক বা কাজ শুরু করতে করতে ডেডলাইন চলে আসে। এর আগে যদিও অনেক ভাবনা চিন্তা করি কাজ নিয়ে। এর একটা কারণ বোধহয় ভয়। বেশি কাজ দেখে এক রকমের অনীহা কাজ করে। এইজন্য রেগুলার রুটিন ভালো জিনিস। প্রতিদিন ২ ঘণ্টা করে কাজ করলে এবং এই ২ ঘণ্টার জন্য ছোট একটা সাব-টাস্ক ঠিক করা রাখলে দেখা যাবে যে এই ভয়টা কাজ করবে না। আগামী ১ মাস এটা টেষ্ট করে দেখবো। দেখি এতে কেমন উন্নতি হয়। 🙂

Comments

comments