মার্চ ২০১৮: Lets participate in various contest

278

১ মার্চ: 

এই মাসের টার্গেট হচ্ছে নানান রকমের কনটেস্টে অংশ নেয়া। অবশ্য বেশিরভাগই কোডিং কনটেস্টই হবে ঘুরে ফিরে। কিন্তু অন্য কনটেস্টেও অংশগ্রহণ করা হবে।

আগামী কালকে পরীক্ষা আছে। বরাবরেই মতই যা হয় আজকেও তাই হচ্ছে। পড়াশোনা! সারা সপ্তাহ না পড়ে এখন শেষদিন এসে পাগলের মত পড়া। অবশ্য পড়ার মাঝে গিয়ে আধ-ঘণ্টার মত খেলে আসছি মাথা ঠিক রাখতে। কালকে পাইথন পরীক্ষা আছে।

২ মার্চ: 

আজকে মসজিদে পাটি ছিলো। ফারহাদ বা ফারহান নামে কেউ একজন পাশ করে বের হয়ে জব পেয়েছেন। চলে যাচ্ছেন তাই পার্টি এবং দোয়া দুইটাই দিয়ে এবং নিয়ে গেলেন। অবশ্য পার্টি বলতে রাতের খাবার। খাবারটাও সেই মজা ছিলো।

পরীক্ষা হয়েছে। ভালোই হয়েছে। প্রস্তুতি থেকে পরীক্ষা কেন জানি সবসময় ভালো হয় বলেই মনে হয় আমার। অবশ্য আমেরিকাতে দেওয়া পরীক্ষার মাঝে এইটাতেই সবচেয়ে কম মার্ক পাওয়ার কথা।

৩ মার্চ: 

আজকে ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট ছিলো। ঠিক করেছিলাম যে এই মাসে শুধু প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া হবে। একটা আছে অলরেডি Kaggle এ। ওইটা কোডিং রিলেটেড। আজকে ব্যাডমিন্টন হয়ে গেল। গ্রুপ পর্যায়ে সবগুলো ম্যাচে জিতলেও পরের রাউন্ডে হেরে গেছি। গ্রুপে যাদের সাথে জিতেছি তাদের সাথেই পরে হেরেছি। শক্তি দরকার। স্ট্যামিনা আরো বাড়ানো দরকার।

খেলার পরে গালিব ভাই এর বাসায় খাওয়া দাওয়া হইছে। এইটা ছিলো বেষ্ট পার্ট। অবশ্য আরো ভালো হতো ইভা সাথে থাকলে। ও ছাড়া কোথাও খুব বেশি ভালো লাগে না। কোথায় জানি একটা শূণ্যতা থাকে। বুজতেছি এই শূণ্যতা সামনে বাড়তে থাকবে।

৪ মার্চ: 

ঘুম আর পড়াশোনা করে গেছে আজকে। ও সাথে সিরিয়ালও। কালকে ল্যাব মিটিং আছে তাই পড়াশোনা করা। কিছু কিছু মানুষের কাজকর্ম অসাধারণ থেকেও বেশি বলতে হবে। কেমনে যে মাথায় এতো কিছু ধরে কে জানে। আজকে ঘর থেকে বের হইনি। খেলাও বন্ধ! ইভার শরীরটাও একটু খারাপ যাচ্ছে। 🙁

৫ মার্চ: 

ক্যাগলের প্রতিযোগিতা আজকে থেকে ভালো করে ধরতে হবে। গালিব ভাই আর আমি টিম। উনি অলরেডি মারাত্মক কাজ করে ফেলেছে। ৫০০ এর মাঝে চলে আসছে। আমিতো ১০০০ এর ভিতরেও আসতে পারতাম কিনা কে জানে! এইবার আমিও আরো মন দিয়ে শুরু করতে হবে। ওনার থেকে শিখতেও হবে অনেক কিছু। আজকে থেকেই ভালো সময় দিবো এইটাতে।

আজকে ল্যাব মিটিং কোনভাবে ল-ব করে পার হয়ে গেছে। যদিও বলার মত ছিলো অনেক কিছুই কিন্তু গুছিয়ে বলা হয় নি। আসলে পড়লেও সলিড কিছু খুঁজে পাইনি এখনি। কিন্তু আশা করি আগামী সপ্তাহে থাকবে। কিছু জিনিস মাথায় আসছে ওইগুলো চেক করে দেখতে হবে। 🙂

৬ মার্চ: 

আজকে বিকেলে হালকা স্নো-পড়া শুরু হয়েছিলো। ক্লাস ছিলো ৪টায়, শেষ ৬.৩০। ক্লাস থেকে আসার সময় দেখি খুব ভালোভাবেই তুষার পড়ছে। বৃষ্টি খুব বেশি হলে বা কুয়াশা বেশি হলে যেমন কিছু দূরে আর কিছু দেখা যায় না একদম ঠিক সেই অবস্থা। ভয়ে ভয়ে কোনভাবে গাড়ি চালিয়ে বাসায় আসছি। আসার ঘণ্টাখানেক পরে আবার তুষার পড়া বন্ধ!

সামনের ২টা সপ্তাহ ভালো চাপের মাঝে দিয়ে যাবে। পরীক্ষা, হোমওয়ার্ক, প্রজেক্ট একসাথে অনেক কিছু পড়ে যাচ্ছে। বুড়া বয়সে আর কত পড়ালেখা রুটিন মেনে পড়তে ভালো লাগে। 🙁

৭ মার্চ: 

সকালে উঠে সংবাদ পড়ছিলাম। অ্যামাজনের এলেক্সা নাকি হুট-হাট করে হেসে উঠে সময়ে-অসময়ে। অবশ্য অ্যামাজন এটা ঠিক করতেছে। আমি সকালে এলেক্সারে হাসতে বললাম। যে অদ্ভুত হাসি! এমনিতেই গভীর রাতে এই হাসি শুনলে দাঁতে খিল লেগে যাবে। এর আগে ফেইসবুকেও নাকি দুইটা এ.আই বট নিজে নিজে কথা বলা শুরু করছিলো যেগুলো ওদের কোডে ছিলো না। শিখে নিতে গিয়ে পুরা উল্টোপাল্টা আচরণ। যদিও যা বলেছে সেটা মোটেও আহামরি কিছু না। কিন্তু তার পরেও নিজের মত করে কিছু বলা মানেই চিন্তার বিষয়। আর ফেইসবুকও তখন বন্ধ করে দেয় বট দুইটাকে।

ইভা মিষ্টি বানাইছে। মজার মিষ্টি। রিভিউ দশে আট। অবশ্য দশে দশও দেয়া যায়। এই বিদেশে মিষ্টি পাওয়া বড়ই দুষ্কর!

৮ মার্চ: 

আজকাল দেখি নিয়মিত লিখা হচ্ছে না। কয়েকদিনের লিখা একসাথে লিখতে হচ্ছে। মানুষ অদ্ভুত একটা জীব! রুটিন কোনভাবেই মেনে চলতে চায় না। কোন-না কোন অজুহাতে ভাঙার চেষ্টা করে। নিয়মিত লিখতে না চাওয়া বোধহয় এরই একটা অংশ।

আজকে চিংড়ি মাছ ভাজি করেছি। জীবনে প্রথমবারই হবে। ইভা বলে দিয়েছি কিভাবে কি করতে হবে। যদিও আমি মাঝখানে ঝামেলা করেছি। পানি দিতে ভুলে গেছি। পরে পানি দিলেও কালার আর গন্ধ যেমন হওয়ার কথা তেমন হয়নি।

গালিব ভাইয়ের ল্যাবে আজকে ছিলাম অনেকটা সময়। জীবনে শেখার প্রাইমারি স্টেজটাই এখনও পার হতে পারলাম না। আরও কত বছর লাগে সেটা ভাবছি। যেভাবে সব দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে তাতে দেখা যাবে যে, কখনই হয়ত পার হওয়া হবেনা এই ধাপ।

৯ মার্চ: 

সারাজীবন শুক্রবারে বন্ধ থাকত। এখনও মাঝে মাঝে শুক্রবারে ঘুম থেকে উঠে ছুটির দিন বলে মনে হয়। সারাদিন মনে হয় ছুটির দিনে ক্লাস করতে হচ্ছে, এইটা করতে হচ্ছে, ওইটা করতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে দেখা যায় যে শুক্রবারই সপ্তাহের সবচেয়ে ব্যস্ত দিন। আজকে দিনটাও তেমনি ছিলো। বিকেলে ছিলো সিজিএস এর মিটিং। যদিও শুক্রবার হওয়াতে মিটিং এ লোকজন কম ছিলো। এ দেশে মানুষ মজার ইভেন্টে অংশ নেয়ার সময় পায়না। সিজিএস এর মিটিং এ আসার আগ্রহ আরো কম হবে এটাই স্বাভাবিক।

জন নামে আমার এক আমেরিকান ক্লায়েন্ট আছে। মাঝে মাঝে হুট করে তার ওয়েবসাইটে কিছু একটা ঠিক করতে হয়। গড়ে হয়ত মাসে ১-২ ঘণ্টার কাজ বা কোন মাঝে থাকেই না। এটাই আমার বর্তমানে একমাত্র ক্লায়েন্ট। যদিও আগে তার ওয়েবসাইট আমি ডেভেলপ না করলে এখন আর তার কাজ করতাম। রিসেন্টলি সে আমাকে আবার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেশি রেট দিয়েছে ঘণ্টায়! যদিও সে তার ইচ্ছেমত যা খুশি পাঠায় পেপালে। আমি কিছুই বলিনা টাকা নিয়ে। না বলে বেশি পাওয়া গেলে বলার দরকার কি হুদাই! 😛

১০ মার্চ: 

আজকে পিওর বন্ধ। ঘুম থেকে উঠে দেখি প্রফেসরের ইমেইল – প্রোগ্রেস কি? কোন জিনিসে প্রোগ্রেস করবো তাই এখনও ঠিক করতে পারি নাই। এর আগে অনেক ভেবে চিন্তে একটা আইডিয়া ঠিক করে কাজ করলাম মাসখানেক। এরপর দেখি কাছাকাছি আইডিয়া নিয়ে পেপার পাবলিশ হয়ে গেছে। এখন আর আইডিয়াই খুঁজে পাই না ঠিকমত। প্রতিদিনই মনে হয় এলগরিদম এবং ডাটা স্ট্রাকচার আবার পড়া দরকার শুরু থেকে।

আজকে বন্ধ হলেও কাজ করতে করতে গেছে অনেকটা সময়। সামনের সপ্তাহটা খুবই ঝামেলার। মাঝে মাঝে এমন সপ্তাহ আসলে মিশ্র অনুভূতি কাজ করে। তখন মনে হয় যে আর কিছুদিন সময় পাওয়া গেলেই হইত। যদিও বাস্তবতা হচ্ছে কিছুই হইত না। 😛

পাইথন ভাষাটা মজার। ভাবতেছি এটার উপরে কিছু টিউটোরিয়াল লিখব। পাইথন দিয়ে ডাটা এনালাইটিকসের উপরে।

১১ মার্চ: 

আজকে দিনের বেশিরভাগ সময় গেছে মূলত মুভি, সিরিয়াল, ঘুম এবং টুকটাক কোডিং এ। ঘুমাইছি সবচেয়ে বেশি। মাঝে দুপুরের দিকে ইভাসহ পিজ্জার জন্য গিয়েছিলাম। এইখানে ফাষ্টফুডের মাঝে পিজ্জাই আমাদের সবচেয়ে  ভালো লাগে। দিনের শেষের দিকে ল্যাবের জন্য টুকটাক কাজ করে আবার ঘুম। 😛

১২ মার্চ: 

ল্যাব মিটিং, ক্লাস এবং আগামী কালকের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতেই আজকে দিন গেছে বলা যায়। অয়ন ভালো হেল্প করছে টপিক বুজতে। যদিও আমরা সবাই জানি এতে কোন লাভ নাই। পরীক্ষায় কিছু পারা যাবে না। ডক্টর মাদ্রিয়া এর প্রশ্নই নাকি বুজা যায় না। সবাই খারাপ করে। বিকেলে একটু করে ব্যডমিন্টন খেলতে গেলাম অয়নের আগ্রহ দেখে। অবশ্য খেলা জমে নাই কেন জানি। শরীর ঠিকঠাক সাপোর্ট দেয় নাই।

১৩ মার্চ: 

যেমন আশা ছিলো ঠিক তেমনই পরীক্ষা হইছে। সারাদিন পড়ালেখা করে ভাবছিলাম কিছু বোধহয় পারবো। কিন্তু পরীক্ষা দিয়ে কি পারছি আর কি পারি নাই ওইটাই বুজা মুশকিল। এক একজনের উত্তর এক একরকম। পরীক্ষা শেষে ক্যাগল নিয়ে বসলাম। আগামী কয়েকদিন টানা কাজ করার ইচ্ছে আগে প্রতিযোগিতার জন্য। কোডিং করতে অনেকদিন পরে খুব ভালো মজা লাগছে। কনটেস্ট ভাবটা চলে আসছে নিজের মাঝে।

আজকে দিনটা এমনিতেই দু:খের দিন। নেপালে প্লেন ল্যান্ডিং এর সময় ক্রাশ করে মারা গেছে বেশিরভাগ। বাংলাদেশ এবং নেপালের মানুষ বেশি ছিলো বিমানে। অনেক আশা নিয়ে যাওয়া মানুষগুলো হুট করে নাই হয়ে গেলো। মারা যাওয়ার ১০ মিনিট আগেও কিছু টের পায়নি। 🙁

রাতে দেখলাম অধ্যাপক হকিং ও মারা গেছেন। সবগুলোই খারাপ খবর।

১৪ মার্চ: 

সকালে ক্লাস ছিলো। ক্লাস শেষে পাইথন কোর্সের প্রজেক্ট মিটিং। প্রজেক্টার জন্য আরো সময় দেয়া দরকার। তাহলে ভালো কিছু আসতেও পারে। আজকে ওয়ালমার্টে গেলাম ইভাসহ। গাড়ির ইঞ্জিন ওয়েল পাল্টালাম। ছোট একটা সমস্যা আছে টাংকিতে। ওইটা ঠিক করতে হবে। আজকে অনেক কিছুই কেনা হলো ওয়ালমার্ট থেকে। বিশেষ করে ইভার কল্যাণে। 🙂

সন্ধ্যা থেকে ছিলাম গালিব ভাইয়ের ল্যাবে। কোডিং করে মজা হচ্ছে কিন্তু প্রগ্রেসের আগা মাথা পাওয়া যাচ্ছে না।

১৫ মার্চ: 

কাল সারারাত কোড লিখছি। গত কয়েকমাসে আজকেই সবচেয়ে বেশি কোড লিখলাম। মনে হচ্ছে সামনে আরো কিছুদিন কোড করা হবে খুব। ডাটা ভিজুয়ালাইজ করে কিছু চার্ট বানানোর চেষ্টা করলাম। ইভা এর গত কয়েকদিন ধরে বড়ই খেতে ইচ্ছে করছে। এখানে বড়ই কই পাবে। দু:খ ভোলার জন্য নাকি নানা রকম বড়ই এর ছবি দেখছে। আজকে পিউরেষ্টে গিয়ে আমরা হুট করে বড়ই পেয়ে গেলাম। ওরা ফলটার নামও জানে না। আমাকে বুজাইলো যে, ফলটা খেতে কিছুটা আপেলের মত কিন্তু ছোট সাইজ। 😛

 

Comments

comments