খোড়া ডাক্তার টি. জে. মিলার

89

ডা: মারলিন যখন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন তখন তিনি বিশ্বাস করতেন চিররুগ্ন, পঙ্গু বা মানসিক বিকলাংগদের এ পৃথিবীতে বসবাসের অধিকার নেই।
ডা: মারলিন এর ছাত্র জীবনে ওয়ার্ডে ডিউটি করার সময় এক জার্মান সন্তান সম্ভবা মহিলা তার ওয়ার্ডে ভর্তি হল।মহিলা একজন উদ্বাস্তু এবং এ সন্তানটি তার দশম সন্তান।নয়টি সন্তান নিয়ে তিনি বেশ অভাবে আছেন।মহিলার প্রতি মারলিনের সহানুভূতি ও দয়ার পরিবর্তে বিরক্তি স্থান নিল।অত্যন্ত বিরক্ত সহকারে মারলিন মহিলার অনাগত সন্তানের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন।বাচ্ছাটি জন্মের পর মরলিন দেখল যে দুভাগ্যবশত বাচ্ছাটির এক পা খোড়া।এজন্য সবাই তাকে উপহাস করবে এবং সারাটি জীবন এই নিয়ে কাটাতে হবে । এমনি সময় মরলিন লক্ষ করলেন বাচ্ছাটি প্রায় র্মত অবস্থায় জন্মগ্রহন করেছে। ।এখনি কিছু না করলে মারা যাবে।  মরলিন ঠিক করল কিছু করবে না।কিন্তু তার অভ্যস্ত হাত ততক্ষনে হৃদপিন্ডকে সচল করে ফেলেছে।মরলিন খুশি হেত পারল না।বিরক্তিভরে বলল “কাজটা কি ঠিক করলাম”? বাচ্ছার মাকে কটু করে বলল আরেকটি খোড়ার আবির্ভাব হল।

ডা: মারলিন এখন ব্যস্ত ড়াক্তার।বয়েসর ভারে বৃদ্ধ। ছাত্র জীবনের কথা প্রায় ভুলে গেছেন। মানুষের জীবন রক্ষার্থে  নিবেদিত প্রাণ।

কিন্তু ডা: মারলিন  এর জীবনে ঝড় বয়ে গেল। একসিডেন্টে মারা গেল তার ছেলে ও ছেলের বউ। বেচে থাকল তাদের চার বছরের মেয়ে বারবারা। তিনি তাকে লালন করতে লাগলেন।যখন তার বয়স দশ বছর তখন সে একদিন সকালে সারা শরীরে ব্যথা নিয়ে জেগে উঠল।তার সমস্ত শরীর অবশ হেয় গেল। ডা: মারলিন  অনেক বড় বড় ডাক্তার এর কাছে গেলেন কিন্তু তারা কিছু করতে পারল না।তবে এক ডাক্তার বলল আমি এক তরুন ডাক্তার এর বই পড়েছি তিনি এই ব্যপারে গবেষনা করেছেন এবং সফলতা লাভ করেছেন বলে দাবী করেছেন।তার নাম ডাক্তার টি. জে. মিলার  ।আপনি তার কাছে নিয়ে যান।

মারলিন  তার নাতণীকে মিলার  এর হাসপাতালে ভর্তি করালেন। কয়েক মাসের মাঝে বারবারা প্রায় সুস্হ হয়ে উঠেছে।

একদিন সমূদ্র সৈকতে ডা: মারলিন  এবং ডাক্তার টি. জে. মিলার   পাশাপাশি হাটছেন।মারলিন হঠাৎ লক্ষ করলেন মিলার  খুড়িয়ে হাটছেন।মিলার  বললেন জানেন ড়া: আমার জন্ম একজন মেডিকেল ছাত্রের হাতে। আমি তাকে দেখিনি কিন্তু ইশ্বরের মত শ্রদ্ধা করি। কারন আমি একটি অচল হৃদপিন্ড নিয়ে জন্মেছিলাম।সে ছাত্রটি না বাচালে কী হত আমার? মার কাছে শুনেছি আমি  খোড়া হয়াতে তিনি খুব দু:খ পেয়েছিলেন। তাই আমি পঙ্গু ,বিকলাংগদের নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিই।জানেন যখন বাচ্ছারা আম্কে পঙ্গু  ডাক্তার বলে ডাকে আমার খুব ভালো  লাগে। প্রতিবার আমার সেই ছাত্রের কথা মনে হয়।

ডা: মারলিনের মনে পড়ে গেল সূদূর অতিতের ঝাপসা হয়ে যাওয়া স্মৃতি।একটি শিশুকে বাচিয়ে সেদিন তার প্রথম মনে হয়েছিল কাজটি কি ঠিক করলাম?

ডা: মিলারকে তিনি কিছু বলতে পারলেননা। মনে মনে বললেন ইশ্বরকে ধন্যবাদ, সেদিন তিনি তাকে দিয়ে এক মহত জীবন  রক্ষ্ করেছিলেন।আসলে প্রতিটি জীবন মূল্যবান। পরম সম্ভাবনার।এমন সময় হাসপাতাল থেকে ডা: মিলার এর ডাক এল।ডা: মিলার ধীর পদক্ষেপে হাসপাতালের দিকে যাচ্ছেন।ডা: মারলিন অবাক বিস্ময়ে চেয়ে দেখছেন ডা: মিলার জীবেনর উন্নতির পথে হেটে চলছেন। আজ একজন খোড়ার পদধ্বনি শুনে তার মনে হল পৃথিবীর মধুরতম সঙ্গীতত্ত কী মানুষের জন্য এতটা আনন্দদায়ক হতে পারে?
(একটি বিদেশী গল্প অবলব্মনে)

Comments

comments