মে ২০১৮ – In the middle of something new!

213

মে ১-৭

অলস হয়ে গেছি। সময় বাঁচানোর জন্য আপাতত সামনের কিছুদিন সপ্তাহ হিসেবে লিখব ভাবতেছি। এতে কম লিখার সাথে সাথে সহজে সাপ্তাহিক কাজের ধারণা পাওয়া যাবে। ওইদিন একজন জিজ্ঞেস করলো আমি ডায়েরি স্টাইলে এই লিখাগুলো ওয়েবসাইটে লিখি কেন? – কেন লিখি আমি নিজেও জানিনা সঠিকভাবে। আমি এমনিতেই ইংরেজিতে লিখে রাখি প্রতিদিনের সামারি। তবে ওয়েবসাইটে কিছু কথা লিখে রাখি যাতে একটা সময় পরে মানুষজন দেখলে বুঝতে পারে যে কারো লাইফই একদম সহজ সরল নয়। অনেক কিছুই ঘটে থাকে সবাই জীবনে। অবশ্য এটাও ঠিক যে, সব কথা ওয়েবসাইটে লিখা হয়না। তারপরেও আমি চেষ্টা করে উল্লেখযোগ্য জিনিসগুলো লিখে দিতে সাধারণভাবে।

আগামী সপ্তাহে শেষ হয়ে যাবে এই সেমিস্টার (স্প্রিং ২০১৮)। সবসময়ই শেষ দুই সপ্তাহ খুব ব্যস্ততায় কাটে। পরীক্ষা, প্রেজেন্টেশন এইসব নিয়ে। এই সপ্তাহটাকে প্রেজেন্টেশন সপ্তাহ বলা যেতে পারে। প্রেজেন্টেশন দিয়েছি ৩ টা, আর দেখেছি অনেকগুলো। মন্দের ভালো এই যে আগামী সপ্তাহ থেকে ৩ মাসের মত একাডেমিক যন্ত্রণা থাকবে না। একাডেমিক কোর্স সমসময়ই মাথার উপর একটা ফালতু প্রেশারের মত। না ফেলা যায় না কিছু করা যায়। রিসার্চ না পড়া এই দুই টানাপোড়নের মাঝে থাকতে হয়।

পড়াশোনার বাইরে এই সপ্তাহটা ক্রিকেট খেলার জন্য ভালো ছিলো। একদিন এক ম্যাচে ৫ ছয় মেরে দিলাম। নিজেরই বিশ্বাস হয় না। ঝড়ে বক মরার মত হইছে বিষয়টা। গালিব ভাই বাউন্ডারি ছোট করে দিয়েছিলো মনে হয়। নয়ত হওয়ার কথা না।

আমরা অনেক সেমাই খাই আজকাল। অবশ্য জিনিসটা খেতে মজা। বানানোও তুলনামূলক-ভাবে সোজা। ইভা মেয়েটা শরীর খারাপ নিয়েও এটা ওটা করে যায়। ওর আত্মসম্মান মারাত্মক। বেশি কিছু করতে বলতে লজ্জা পায় বোধহয়। মাঝে মাঝে আমার উপরেও রাগও করে। এই সময়ে অবশ্য মুড এদিক ওদিকে চলে যায় সবারই। তবে বউটা ভালো আমার। অন্য কেউ হলে আমরা দুইজনের কেউই হয়ত এমন ভালো থাকতাম না।

বাসার কথাও মনে পড়ে। আমি খুব বেশি সামাজিক না। ফোন তেমন একটা দেয়া হয়না কাউকে। কিন্তু ঠিকই মনে পড়ে। তখন আমি তাদের খবরা-খবর নেয়া চেষ্টা করি নানান মাধ্যম থেকে। আম্মা-আব্বাকে এখানে নিয়ে আসতে ইচ্ছে করে। জীবনে অনেক কিছুই আমি দেখেছি যা ওনারা এখনও কল্পনা করতেও পারেন না। বাবা-মায়েরা বোধহয় সন্তানের চোখেই দুনিয়া দেখে।

মে ৮-১৪

স্প্রিং ২০১৮ এর শেষ একাডেমিক সপ্তাহ। একটা পরীক্ষা আর একটা প্রেজেন্টেশন বাকি ছিলো ৮ এবং ১০ তারিখে। পরীক্ষা শেষে সবসময়ই একটা মুক্তির আনন্দ পাওয়া যায়। যদিও পিএইচডি লাইফে মুক্তি বলে কিছু নাই। যতদিন পিএইচডি না হচ্ছে ততদিন টানা একটা মানসিক অত্যাচারের উপরে থাকতে হয়। সবসময় নিজকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হয়। প্রতিদিনই কিছুনা কিছু নতুন করে জানতে হয়।

একাডেমিক কাজ শেষ হওয়াতে ক্যাগল কনটেস্টে নিয়ে কিছুটা মনোযোগ দিলাম এই কয়দিন। আভিতো ডাটা কনটেস্টটাতে কিছু হয়ত করা যেতে পারে। যদিও অনেক বড় সাইজের ইমেজ ডাটা থাকাতে একটা সমস্যা। আমার পিসি আবার ইমেজ ডাটা এর জন্য উপযুক্ত না।

এই সপ্তাহে অনেক দিন পরে হুট করে ফুটবল খেলা হয়ে গেলো। ১০ তারিখে আমরা ক্রিকেট খেলতে গিয়ে দেখি মাঠ আগেই দখল হয়ে আছে। কিছু ছেলে-পেলে ফ্রিজবি খেলছে। অন্য একটা মাঠে গেলাম যদি ওখানে জায়গা পাওয়া যায়। না পেয়ে শেষে আগের মাঠের এক সাইডে গিয়ে ফুটবল খেলা শুরু করে দিলাম আমরা। কিছুক্ষণ ফুটবল খেলেই সবার কাহিল অবস্থা। এরপর আমরা অবশ্য ক্রিকেটও খেলেছি ফ্রিজবি খেলা শেষ হয়ে যাওয়াতে।

অমর্ত্যকে ল্যাবের পক্ষ থেকে ফেয়ারওয়েল দেয়া হলো। পার্টি হয়েছে ডাগ এর বাসায়। চিকেন বার্বিকিউ এর সাথে খিচুড়িও ছিলো। কিছুক্ষণ ক্রিকেট খেলে এরপর ইভা-সহ যোগ দিলাম ওখানে। পার্টিটা অন্যরকম হলেও মজার ছিলো। আমেরিকান কালচারের সাথে সাউথ এশিয়ান কালচারের একটা মিক্সচার ছিলো।

রোলার এদিকে সালেম নামে একটা জায়গা আছে। যাওয়ার সময় রাস্তার দু-পাশ একদম সবুজ। অনেকটা ক্যালেন্ডারের ছবির মত। ওদিকে ফার্ম থাকাতে বিশাল বিশাল জায়গা দেখতে পাওয়া যায়। ওইগুলো আবার গলফ মাঠের মত। আমি আর ইভা বের হয়েছিলাম গাড়ি নিয়ে। হালকা বৃষ্টি হচ্ছিলো। আলো, বৃষ্টি সব মিলিয়ে মারাত্মক ভালো এবং সুন্দর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে আসলাম আমরা।

মে ১৫-২১

এই সপ্তাহে রোজা শুরু হয়েছে। সামার আসার পর থেকেই গাড়ির এসি সমস্যা করছিলো। ভিতরে বাতাস ঠাণ্ডা হয়না। কিছুক্ষণ চেষ্টা করেও লাভ হলো না। ধরে নিলাম যে কোন একটা সমস্যা হয়েছে কোথায়। রোজা চলে আসাতে মেকানিকের কাছে গেলাম এসি ঠিক করানোর জন্য। মেকানিক চেক করে দেখে যে গাড়ির এসির বাতাস ঠাণ্ডা হওয়ার জন্য যে বাটনটা চাপ দিতে হয় ওটা দেয়া নাই। কি আর করা নিজের অজ্ঞতার জন্য কিছুটা লজ্জা পেয়ে গেলাম। অবশ্য খুশি যে কোন সমস্যা হয় নাই। 😀

এই সপ্তাহটা হুট করে অনেক ব্যস্ত সপ্তাহ হয়ে গেলো। এই সামারে আমার ইন্টার্ন করার কোন ইচ্ছে ছিলো না। কোথাও আবেদনও করি নি। আমার ল্যাবের আজহার ভাই ভেরিসাইনে রিসার্চ ইন্টার্নশিপ এর সুযোগ পেয়েছে। ২১ থেকে শুরু ওনার কাজ। আমাকে উনি জানালেন যে ওদের আরো ২জন ইন্টার্ন দরকার এবং এর মাঝে একজন দরকার মেশিন লার্নিং এ। ইন্টার্নশিপ পাওয়া গেলে ভালোই হয়। কিছু বাড়তি টাকা পয়সার সাথে সাথে ভালো অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। আমি আবেদনের জন্য কাজ শুরু করলাম। নতুন করে রিজিউম তৈরি করলাম এরপর ২ দিনের মাথায় ইন্টার্ভিউ এর ডাক পেলাম। ইন্টার্ভিউ এর প্রস্তুতিও নিতে হচ্ছে। এইটুকু হলেও হতো। কিন্তু আমাকে প্রফেসর একটা পেপারও সাবমিট করতে বলেছে যেটার ডেডলাইন ২৫ তারিখ। দুইটা মিলে একসাথে কঠিন প্রেশারের মত হয়ে গেছে। দুইটাই গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কোনটা ছেড়ে কোনটা করার উপায় না থাকায় মাথা খারাপের মত অবস্থা। এর সাথে রোজা থাকায় দিনের বেলায় কষ্টও হয়ে যায়।

২১ তারিখে ইন্টার্ভিউ ছিলো ভেরিসাইনের সাথে। খুব একটা ভালো হয়নি। ওদের হাতে বোধহয় অন্যকোন ভালো অপশন নাই। বিকেলের দিকে জানালো, ওরা আমাকে টিমে নিতে আগ্রহী। আমিও আগ্রহী হলে ওরা কাগজপত্র প্রসেস করা শুরু করবে। আমার তো আর না বলার কোন কারণ নাই। 😛

মে ২২-৩১

মাসের শেষ কয়েকটা দিন খুব ঝামেলায় গেলো। বিশেষ করে ইন্টার্ন এর জন্য। কাগজপত্র রেডি করা ভালোই পরিশ্রমের কাজ। প্রফেসরকে রাজি করাতে হলো, এরপর এই-ওই ফরম পূরণ করে জমা দিতে হলো। ভেরিসাইন থেকে আবার সিকিউরিটি ভ্যারিফাই করবে। এটার জন্য অনেক তথ্য দিতে হলো। গত ১০ বছরের নানান তথ্য দিতে হয়। কই ছিলাম, কই জব করছি এইসব। নিজরেই মনে নাই কবে কোন ঠিকানায় ছিলাম। বসে বসে মনে করে লিখতে হলো সব। এইগুলো সব ঠিক থাকলে জুনের ১১ তারিখ থেকে শুরু হবে ইন্টার্র্নি। এর জন্য ভার্জিনিয়া যেতে হবে। ১০০০ মাইলের মত দূরে আমাদের রোলা থেকে।

আগের বাসা পাল্টে আমরা নতুন বাসায় উঠেছি। আগের বাসার সাথেই এই বাসাও। কাছে হলেও বাসা পাল্টানো অনেক কঠিন একটা কাজ। অবশ্য অনেকেই হেল্প করাতে পাল্টানো গেছে। নয়ত রোজা রেখে পাল্টাতে পারতাম না। সকালে আবার মুশফিক ভাইয়ের বাসা পাল্টানোতে ছিলাম। উনি নতুন এসেছেন এখানে। গত কিছুদিন ধরে উনি মোটেলে ছিলেন। ওনার বাসা পাল্টানো না বলে আসলে নতুন বাসার জন্য জিনিসপত্র কেনা বলাই ভালো হবে। নতুন এই বাসাটা সুন্দর। পাশে একটা জঙ্গলের মত আছে। ওখানে হরিণও দেখতে পাওয়া যায় মাঝে মাঝে। যদিও আমাদের সুন্দর বনের হরিণের মত সুন্দর না এইগুলো। এই পোস্টের ফিচার ছবিটি বাসার ভিতর থেকে তোলা।

মাছগুলো অনেকটা কই মাছ এবং তেলাপিয়া মাছের মত

বাসায় পাশ দিয়ে ছোট একটা লেক গেছে। লেকটাও আহামরি কিছু নয়। কিন্তু মাছ আছে অনেকগুলো। ১০-১২ বর্গফুট একটা জায়গায় গভীরতা কিছুটা বেশি লেকের। ওখানে মাছের সংখ্যা ওভার পপুলেটেড হয়ে গেছে। হাজার-খানেক হতে পারে টোটাল সংখ্যা। অবশ্য অনেকগুলোই অনেক ছোট ছোট সাইজে। আমারা মাঝে কয়েকদিন বড়শি দিয়ে মাছ ধরে ভাজি করে খেয়ে ফেলেছি। বাচ্চা কিছু পোলাপান মাঝে মাঝে মাছ ধরতে আসে। ওদের থেকে বড়শি পেয়েছি আমরা।

এখানে বেশিরভাগ দিনই ইফতার মসজিদে করা হয়। সিস্টেমটা ভালোই। সব জাতীর মুসলিমরা খেতে আসে একসাথে। এক একদিন এক-এক কমিউনিটির ইফতার বানাতে হয়। ইফতার বলতে এখানে হালকা কিছু খেয়ে ডিনার বুজানো হয়। দিনশেষে ইফতার করে, রাতে খেয়ে একসাথে বাসায় ঢুকা যায়। আমি অবশ্য সারারাত জেগে থাকি এরপরে। এই কাজটা ভালো হচ্ছে না। রাতে না ঘুমালে শরীর খারাপ লাগে। বিশেষ করে পায়ে ব্যথা করে আমার। এইবার ইফতারের জন্য আমি ওভেনে মুরগি বেক করেছিলাম। এইটাও একটা নতুন অভিজ্ঞতা। যদিও কাজটা কঠিন না। তবে ভয়ে ভয়ে করছি। রান্নাই যেখানে ঠিকঠাক পারিনা সেখানে ইফতারের জন্য খাওয়া বানাতে গেলে টেনশন লাগেই। অবশ্য অন্যরা ভালো ভালো রান্না করে নিয়ে আসে।

ভাবলাম একটা ছবি থাকুক। কেউ জীবনে কিছু রান্না করিনাই বললে ছবি দেখাই দিব 😛

পেপারটা সাবমিট করা হলো না। কাজ গুছাতে পারিনি। সামনে যদি কোন কনফারেন্সে সুযোগ থাকে তাহলে সাবমিট করে দিতে হবে। আপাতত অপেক্ষায় আছি সিপিটি এবং ইন্টার্নের অন্যান্য অফিসিয়াল প্রসেসিং শেষ হওয়ার জন্য। ইন্টার্নটা হুট করে হয়ে গেলো। আর্থিক দিক থেকে আমাদের জন্য ভালো হইছে। দেশে যাওয়ার একটা ছোট চিন্তা ছিলো মাথায়। ওটা আপাতত বাদ হয়ে গেলো। আবার কবে দেশে যাবো কে জানে। 🙁

Comments

comments