চেষ্টা করেও ব্লগে নিয়মিত হতে পারছিনা। ব্লগ লিখার থেকে ফেইসবুকে লিখা সহজ। তাই ওখানেই স্ট্যাটাস দিয়ে ফেলি। একটু আগে আজকের একটা ঘটনা শেয়ার করলাম। ভাবলাম ব্লগেও শেয়ার করি। ফেইসবুকেও আপনাদের পাবোনা। 🙂
জীবনে প্লান করে কাজ করাটা খুবই প্রয়োজন। যদিও সবসময় প্লান মাফিক কাজ করা যায় না। প্লান সম্পূর্ণ করার জন্য প্রয়োজন ইচ্ছে, পরিশ্রমের। আর সবার কাছেই আছে শেখার অনেক কিছু। আজ এক রিক্সাওয়ালা চাচাকে দেখে বুঝলাম এসব!
আজ ফেনী আসলাম আম্মুকে দেখতে। আম্মু সিএনজি ব্যাথা পেয়েছেন একটু। বাসায় আসার জন্য মহিপাল বাস থেকে নেমে রিক্সাতে উঠতে হবে। ৪৫ বছরের আশেপাশে হবে এমন এক রিক্সা চালকের সাথে দেখা হলো। বললাম নাজির রোড যাবেন কিনা? ভাড়া চাইলো ২৫টাকা। অবশেষে কষাকষি করে ২০টাকা ভাড়া ঠিক হলো।
বাসার সামনে এসে ২০টাকা দিলাম। বলেযে, আরও ৫টা টাকা যদি বাড়াই দিতেন! আমি ভেবে আরও ২টাকা দিলাম। ৫ না হোক ২টাকা পেয়েও চাচা ভালোই খুশি। চাচার হাসিটা খুব সুন্দর। আমি জিজ্ঞেস করলাম আপনার বাসা কোথায়? বললো সয়দেবপুর। এরপর জিজ্ঞেস করলাম দুপুরে খাইছেন?
বললো যে, না খাইনি। আমি বললাম কেন? বেলা তো অনেক হইছে। ৩.৩০ এর বেশি বাজে। উনি আমাকে বললেন যে, এখনও ৩০০টাকা হয়নাই। আমিতো অবাক। ৩০০টাকার সাথে খাওয়ার সম্পর্কটা কি!!
বললাম যে, কত হইছে। বলে আপনার ২২টাকা সহ ২৮০ এ মত। আমি বললাম ৩০০টাকা কেন লাগবে? বলেযে এটা আমার এক দিনের সঞ্চয়। পরিবার চালানোর জন্য এটা জমাই আমি। দুপুরের খাবারের আগে এটা আয় করি। এরপর খেয়ে রাতের মাঝে ২০০টাকা আরও খেপ মারি। আমি বললাম এটা কেন? বললো যে, রিক্সাভাড়া দিতে হয় ১০০টাকা, দুইবেলা খাবার ৬০টাকা। আর হাতখরচ দিনে ৪০টাকা নাস্তাসহ। আমি বললাম ভালোতো। সবসময় কি এমন করেন? ৩০০টাকা হবার পরে দুপুরের খাবার খান? উনি মাথা নাড়লেন।
আমি পকেট থেকে আরও ১০টা দিলাম। দিয়ে বললাম যে, আজ না হয় ২৯০ হবার পরেই খেয়ে ফেলেন। আমার পক্ষে আর দেয়া সম্ভব নয় এখন, নয়তো ৩০০ পুরাই দিতাম। উনি আমাকে অবাক করে, ১০টাকা ফেরত দিয়ে দিলেন। বললেন যে, লাগবেনা। দোয়া করবেন যাতে দ্রুত ২০টাকা খেপ মারতে পারি। আর আমাকে বললেন দোয়া করি আপনি অনেক বড় হোন, তাহলে আমার মত অনেকেই এইরকম অবেলায় দুপুরের খাবার খেতে হবেনা।
অদ্ভুত সব মানুষ! ওনাদের মত মানুষদের জন্য যদি কিছু করতে পারতাম! ১০টাকা যত্ন করে রেখে দিতে হবে। জীবনের একটা বড় পাওনা।











কিছু কিছু মানুষ সত্যিই অদ্ভুত, অদ্ভুত তাদের প্রত্যেকটি কাজ। অথচ তারাই আমাদের শিখায়, নতুন করে শিখতে অনুপ্রানিত করে।