কাভার লেটার, ইন্টারভিউ এবং অত:পর…

128

ফ্রিল্যান্সিং এ কাজ পাওয়ার জন্য বেশ কিছু জিনিস প্রয়োজন।

১. প্রথমেই যোগ্যতা।
২. আইডি এবং ভালো একটা প্রোফাইল তৈরি করা।
৩. ভালো কাভার লেটার।
৪. ইন্টারভিউতে ক্লায়েন্টকে কনভিন্স করা।

১. যোগ্যতা: আপনি যে কাজ করতে চান তা আপনাকে জানতে হবে। কাজ না পারলে আপনি বুঝবেনই বা কি করে কোন কাজে Apply করবেন আর কোন কাজে করবেন না। আর আবেদন করলেও খুব কম সংখ্যক কাজেই আবেদন করতে পারবেন সামান্য যোগ্যতা নিয়ে। তাই যে কাজ করতে চান ওই কাজে এক্সপার্ট না হলেও অন্তত খুব ভালো হতে হবে।

২. আইডি এবং প্রোফাইল তৈরি নিয়ে একটি পোস্ট দ্রুতই লিখা হবে। এখন থাক।

৩. কাভার লেটার: কাভার লেটার কিভাবে লিখবেন দেখে নিন নিচের লিংক থেকে।

কাভার লেটার কিভাবে লিখবেন?

৪. ইন্টারভিউ:

Interview_Representation

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় ইন্টারভিউ। ভালো একটা কাভার লেটার দেয়ার পরেই আসেই ইন্টারভিউ এর পালা। অনেক ক্লায়েন্ট কাভার লেটার দেখেই ফ্রিল্যান্সার সিলেক্ট করে ফেলে। আর এইজন্য কাভার লেটারটা ভালো হওয়া বাঞ্ছনীয়। তবে অনেক ক্লায়েন্ট ইন্টারভিউ নিতে চায়। বিশেষ করে যে সব কাজ দীর্ঘমেয়াদি কিংবা বাজেট নিয়ে ক্লায়েন্ট কনফিউশনে আছে ওইসব কাজে।

এখন আপনি কিভাবে কি করবেন?

১. আপনাকে ইন্টারভিউতে ডাকা মানে আপনার কাভার লেটার ক্লায়েন্টের ভালো লেগেছে। তাহলে ইন্টারভিউতে সে কি দেখতে চায়?
–> আপনি কাজটি কতটুকু বুঝেছেন।
–> ক্লায়েন্টের জব ডেসক্রিপশন হয়তো পূর্ণাঙ্গ নয়। আরও কাজের ডিটেইল আপনাকে জানানো এবং আপনার মতামত নেয়া যে পারবেন কিনা বা কেমন সময় ও খরচ লাগবে।
–> আপনাকে হয়তো পছন্দ হয়েছে কিন্তু রেট নিয়ে আলোচনা করা।
যেটাই হোক যেহেতু আপনার কাভার লেটার তার ভালো লেগেছে এবং সে আপনার কাছে এসেছে তার মানে আপনি এই কাজের জন্য কিছুটা হলেও যোগ্য। ইন্টারভিউতে এই কনফিডেন্সটা ধরে রাখুন।

২. কাজটা যে ভালো করে বুঝেছেন তা তাকে বুঝান। তাকে রিকোয়ারমেন্টগুলো আপনার মত করে গুছিয়ে বলুন যে এইগুলোই কিনা? সে আপনার যোগ্যতা সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হবে।

৩. তার বাজেট কম থাকলে ভেবে দেখুন আপনি করবেন কিনা। যদি খুব কম হয় তাহলে তাকে তা জানান। বলুন যে সম্ভব না। যে যদি পারে সময় নিয়ে বাজেট বাড়িয়ে আসুক।

৪. মনে রাখবেন সে একাধিক জনের ইন্টারভিউ নিতে পারে। তাই কাজটার জন্য আপনি যোগ্য তা ভালো করে বুঝান। একই সাথে যদি এমন কাজের ডেমো থাকে তাও বুঝান। সম্ভব হলে তার যে সব রিকোয়ারমেন্ট সেগুলো একটু অ্যানালাইসিস করে বলুন যে এটা এমন হলে ভালো হয়, এটা না করা উত্তম এগুলো। মোট কথা তাকে বুঝতে দিন যে আপনি এই কাজে এক্সপার্ট এবং সে আপনার উপরে আস্থা রাখতে পারে।

৫. সম্ভব হলে তাকে খরচ কেমন হবে এবং কত সময় লাগবে তার একটি ধারণা দিন। এটা ঘণ্টায় কাজের জন্য।

৬. কোন রিকোয়ারমেন্ট যদি বুঝতে সমস্যা হয় বা আপনার মনে হয় যে আপনি পারবেন না তাহলে তা একটু টেকনিক্যালি বলুন। আপনি বলতে পারেন যে এই অংশটা নিয়ে আপনি নিশ্চিত না। আপনাকে একটু দেখতে হবে রিসার্চ করে পারবেন কিনা বা আপনি নিশ্চিত না পারবেন কিনা। তবে আপনি চেষ্টা করে দেখবেন। যদি সম্ভব না হয় তাহলে আপনি কোন চার্জ করবেন না। এটা আগেই বলে রাখুন। নয়তো ক্লায়েন্ট আপনাকে হায়ার করার পরে খুব খারাপ রেটিং দিয়ে দিতে পারে।

সবকিছু যদি ঠিক থাকে তাহলে আপনাকে হায়ার না করার কোন কারণ নেই। হায়ার করার পরে যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করুন। কাজ যে সময়ে করতে হবে তার আগেই শেষ করুন। এতে ক্লায়েন্টের আপনার দক্ষতার উপর আস্থা বেড়ে যাবে এবং আপনাতে আরও কাজে হায়ার করবে। বড় প্রজেক্ট হলে প্রতি অংশের কাজ শেষ হওয়ার পরে আপডেট পাঠান। ক্লায়েন্টের কোন মেসেজের উত্তর যত দ্রুত সম্ভব দেয়ার চেষ্টা করুন।

কাজের ক্ষেত্রে সবসময় সততা বজায় রাখবেনআপনি শুধু আপনার না দেশেরও প্রতিনিধি। আপনার ভালো, মন্দ দুইটারই প্রভাব পড়বে অন্যদের উপর। শুভকামনা সবার জন্য।

দ্রুতই আরও লিখা লিখব।

কোন কিছু বাদ পড়ে গেলে কিংবা ভুল হলে দয়া করে জানাবেন। ছোট মানুষ তো ভুল হতে পারে। ক্ষমা করে দিবেন। 🙂

Comments

comments