কোন একটা কিছু পড়ার আগে দুইটা জিনিস জানা খুব প্রয়োজন।
১. যা পড়ছি কেন পড়ছি?
২. এটা কি কাজে লাগবে?
আফসোস যে একটা বিষয়ে ৭০/৮০ এর বেশি মার্ক পেয়ে যাওয়ার পরেও এই দুইটা প্রশ্নের উত্তর জানা হয় না অনেকের। অবশ্য দুইটা প্রশ্নের একটা গড় উত্তর সবাই জানে। তা হল সার্টিফিকেট পাওয়া। মানুষ নিজে নিজে যখন কিছু পড়ে তখন কিন্তু সে জানে কি পড়ছে, কেন পড়ছে, পড়ে কি জানতে চাচ্ছে। কিন্তু একাডেমিক ক্ষেত্রে অনেক সময়ই এটা জানেনা। বরাবরই শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য এর সাথে আমাদের কঠিন দূরত্ব বজায় থাকে।
শিক্ষা যখন গঠনমূলক হয় তখন তা সবার জন্য হয় আশীর্বাদের মত। কিন্তু চাপিয়ে দেয়া গলাধ:করণ শিক্ষা মানুষের মাঝে কোন চেতনা তৈরি করে না। মানুষকে তৈরি করে টাকা আয়ের মেশিন হিসেবে। মাঝে মাঝে তৈরি করে অন্ধ, বিবেকহীন হিসেবে।
মনের বিরুদ্ধে অনেক পড়তে হচ্ছে এবং পড়ছি আমি। হয়ত সামনে আরও পড়ব। হয়ত পাশ করবো হয়ত ফেল। কিন্তু কখনই জানবো না কি পড়ছি কেন পড়ছি। এটা জানার চেষ্টা করাটা আমার দায়িত্ব নয়, আমার দায়িত্ব পড়ে যাওয়া। জানার জন্য পড়তে হয় এটা পুস্তকেই থাকে, বাস্তবে সার্টিফিকেটের জন্যই পড়তে হয়।
— উপরের কথাগুলো ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের। বর্তমানেও চিন্তাভাবনা একই রকম। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী-ই একই অবস্থায় আছে। তবে এখন আমি যাই-ই পড়ি জেনে-বুঝে পড়ি। কোন কিছু পড়তে বাধ্য হলে আগে বোঝার চেষ্টা করি যে এই বিষয়ের কি কি মজার বিষয় থাকতে পারে। আর এটা পড়লে কি কি জানা যেতে পারে এবং কি কি কাজে লাগানো যেতে পারে।
আর এখন যে জিনিসটা সবচেয়ে ভালো পারি তা হলো যে কোন টপিক মজা নিয়ে পড়তে পারি। কিভাবে পড়লে মজা পাওয়া যাবে কোন কিছু থেকে তা শিখে ফেলেছি। 🙂 😀














