শুভ বিবাহ আবরার ও যূঁই

70

এখন পর্যন্ত আমার যার বিয়েতে সবচেয়ে বেশি যাওয়ার ইচ্ছে ছিলো তা হলো Abrarএর বিয়েতে। আমি ঠিক করেছিলাম যে আমি যেখানেই থাকিনা কেন তার বিয়েতে যাব। খুব কনফিডেন্স নিয়ে কোন কিছু ঠিক করতে নেই। কারণ উপরে একজন সুনিপুনভাবে সব নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি না চাইলে কোন কিছু হওয়াই সম্ভব নয়। তিনি চান নি, তাই আমিও যেতে পারিনি। অবশ্য ওর বিয়েতে যেতে পারিনি এটা নিয়ে মন খারাপ করার সুযোগ পাইনি গত কয়েকদিন। আজকে এটা নিয়ে মন খারাপ হচ্ছে খুব।

আবরার কে নিয়ে কিছু কথা বলা যাক। আবরার ছেলেটার সাথে যখন আমার প্রথমপরিচয় হয় তখন আমরা স্কুলে। কি পরিচয় হয়েছিলো, কি কথা হয়েছিলো আমার কিছু মনে নেই। (বলে রাখা ভালো কলেজ শেষ করা পর্যন্ত আমি বিশেষ শ্রেণীর হাঁদারাম ছিলাম। এখনও আছি অবশ্য।) ডিজুস আমলে কিছুদিন গ্রুপ ভয়েস কলে তার সাথে আমার কথা হয়েছিলো। কিন্তু তখনও তাকে জানিনা এবং চিনিনা আমি ঠিকমত। তাকে আমি ভালোভাবে প্রথম চিনতে পারি নোবিপ্রবি ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার দিন। আমরা বাসে আসছিলাম এক সাথে। সে এক কাকতাল মাত্র। আসতে আসতে নানান কথা হয়। একটা ছেলে এইভাবে এত কথা বলবে তা আমি ভাবিনি। পরে একসাথে একই ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হওয়ার কারণে, একই শহরে বাসা এবং স্কুল ক্লাসমেট হওয়ার কারণে তার সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে আমার।

ভার্সিটিতে এমন কোন কাজ নাই যেটা আমরা একসাথে করিনি। যতগুলো কাজ আমি করেছি তা তার জন্য। সবকিছু সুন্দর করে গুছিয়ে করার একটা মারাত্মক গুণ আছে তার মাঝে। আমরা একে অপরের সব কাজে একসাথে দাড়িয়ে যেতাম। কোন পরিকল্পনা করার সময় আমার ভাবতে হয় নাই যে আবরার না বলবে, একই সাথে আবরারও কিছু করার সময় মনে হয় ভাবতনা যে আমি সহায়তা করব না তাকে। মোট কথা হলো, সে ছাড়া ভার্সিটিতে আমার সব কাজই ছিলো অসম্ভবের মত। এত সুন্দর চিন্তাভাবনা এবং পরিষ্কার মনের মানুষ খুবই কম দেখেছি আমি। (অবশ্য ইদানীং সে কিছুটা জটিল হয়ে গেছে। বাস্তবতার জন্যই বোধহয়)। এই ছেলে যখন একটা মেয়েকে পছন্দ করবে তখন সে যে তাকে একেবারে নিজের করে নিবেই তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সে ঠিক এই কাজটাই করেছে। চমৎকার একজন মানুষকে তার জীবনসঙ্গী করে নিয়েছে।

আবরারের সবচেয়ে আনন্দের সময়টাতে পাশে থাকা হলো না। অবশ্য আনন্দের সময় পাশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কিছু না। পাশে থাকা দরকার বিপদ এবং কষ্টের সময়। সেটা থাকতে পারলেই হলো। তবে আমি দোয়া করি চমৎকার এই দুইজন মানুষ যাতে কোন বিপদে না পড়ে। আর যদি পড়েও যায় দুইজনে মিলে যাতে সুন্দর করে তা সামাল দেয়। তারা যে সুন্দর করে হাতে হাত ধরে সামাল দিবে তাতেও আমার অবশ্য কোন সন্দেহ নাই। তারা ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক, সুখে থাকুক – এই দোয়া এবং কামনা রইলো।

বি.দ্র.: যূঁই কে নিয়ে কিছু লিখলাম না। ভাবীদের নিয়ে কিছু লিখা ঠিক না। ওকে নিয়ে লিখবে আবরার। সারা জীবনই লিখে যাবে। 🙂

Comments

comments